Bangla Golpo - Khub sundor বাংলা গল্প

   বন্ধুরা তোমরা যারা বাংলা গল্প bangla golpo পড়তে ভালোবাসো তাদের জন্য এখানে চমৎকার ১০ টি বাংলা গল্প বর্ণনা করা আছে। এগুলি তোমরা পরে খুব আনন্দ পাবে তাই পড় ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার কর ।

   যদি তোমাদের এই বাংলা গল্প bangla golpo গুলি পড়ে ভালো লাগে তবে এই গল্প গুলি অবশ্য তোমার বন্ধু দের কাছে সেন্ড করো, যাতে সেও এই গল্প গুলি পরে মজা নিতে পারে। Moral story in Hindi

বাংলা গল্প - bangla-golpo

Bangla Golpo


বৃদ্ধার বুদ্ধি - bangla-golpo

    একদা এক বিরাটাকার জাহাজে যান্ত্রিক গোলযোগ পরিলক্ষিত হয়। জাহাজ মেরামতের অভিপ্রায়ে মালিকের চেষ্টায় কোন ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হয়নি। আজ এক জনকে, কাল অন্য জনকে, পরশু আরেকজনকে দিয়ে চেষ্টা চালিয়েই যাইতেছিল। কিন্তু কাহারো পক্ষেই এই জাহাজটিকে মেরামত করা সম্ভব হইতেছিল না।

 দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা আপ্রাণ চেষ্টা করিয়াও যখন কোন কুল কিনারা করিতে পারিতেছিল না তখন এক বৃদ্ধ লোকের ডাক পরিল। কারণ বৃদ্ধার যৌবনকালে এমন একটি সমস্যার সমাধান করিয়াছিল বলিয়া জনশ্রুত আছে। বয়োবৃদ্ধ ভদ্রলোক বিশাল এক যন্ত্রপাতির বাক্স লইয়া হাজির হইয়া দ্রুতই কাজে নামিয়া পরিল।

 সে ইঞ্জিনের শুরু হইতে শেষ পর্যন্ত খুবই সতর্কতার সহিত পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরখ করিয়া দেখিল। জাহাজের মালিক বৃদ্ধার সহিত সর্বক্ষণ লাগিয়া থাকিল এবং বোঝার চেষ্টা করিল বৃদ্ধা কিভাবে জাহাজ মেরামত করিবে।

 পরিদর্শন শেষ করিয়া বৃদ্ধলোকটি তাহার বিশাল যন্ত্রপাতির বহর হইতে একটি ছোট্ট হাতুড়ি বাহির করিয়া ধীরে সুস্থে এঞ্জিনের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় হাতুড়ি দিয়া কয়েকটা আঘাত প্রদান করিল। সঙ্গে সঙ্গেই এঞ্জিনটি সচল হইয়া উঠিল। কর্মসম্পাদনে বৃদ্ধা সাবধানে তাহার হাতুড়ি ব্যাগে রাখিল। জাহাজ সারাই সুসম্পন্ন।

 এক সপ্তাহ পর। জাহাজের মালিক এক লক্ষ টাকার একটি ফর্দ হাতে পাইয়া চোখ ছানাবড়া। অসম্ভব!!! বুইড়া তো কিছুই করে নাই। সামান্য হাতুড়ী পিটাইয়া এত টাকা চায়? বৃদ্ধার কাছে বিলটি ফেরত পাঠিয়ে অনুরোধ করা হইলো দয়া করিয়া তালিকাবদ্ধ ভাবে বিল প্রদান করুণ।

 বৃদ্ধার বিল হাতুড়ির বারি দেয়ার জন্য ২০০.০০ টাকা ও কোথায় হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিতে হবে সেটা জানার জন্য ৯৯,৮০০.০০ টাকা।




শিয়াল ও সিংহ  - 

   পশুদের রাজা সিংহ। যেমনি বিরাট তার চেহারা তেমনি তার গর্জন। তাকে দেখলেতো বটেই, দূর থেকে তার গর্জন শুনলেই বনের পশুরা ভিরমি খেতো, প্রায় আধমরা হয়ে যেত। এক শেয়াল এমন এক বনে বাস করতো যেখানে কোনো সিংহ ছিল না।

   একদিন ক্ষিধের জ্বালায় অস্থির হয়ে শেয়াল ঘুরতে ঘুরতে এমন এক বনে এসে পড়লো, যে বনে পশুরাজ সিংহ বাস করতো। শেয়াল তখন খাবারের খোঁজে ঐ বনে ঘুরছিল। এমন সময় একটু দূরে সিংহ ডেকে উঠল। ডাক শোনামাত্র শেয়াল ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে বসে পড়লো।

   একটু পড়ে সিংহ যখন তার সামনে হাজির তখন শেয়াল তার ভয়ংকর চেহারা দেখে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল। এরপর শেয়াল আর একদিন সেই বনে এসে আবার সিংহের দেখা পেল। এবার ভয় যে তার করলো না তাই নয়, তবে আগের বারের মতো অজ্ঞান আর হলো না।

    বরং কিছুক্ষণ তার দিকে চেয়ে রইল-হ্যাঁ, বিরাট চেহারাই বটে, তবে আমারই মতো পশু ছাড়া এ আর কিছুই তো নয়। আমায় তো সেদিন আর খেয়ে ফেলেনি-এই ভেবে শেয়াল তাকে দেখে আর পালালো না। এর পরের বার বনে এসে সিংহের সঙ্গে যখন তার দেখা হল- তখন তাকে দেখে ভয় যে তার একেবারেই করলো না তা নয় তবু বাইরে ভয়ের কিছু না দেখিয়ে তার সামনে দিয়ে স্বচ্ছন্দে চলে গেল।

   এরপর অবশেষে এমন একদিনও এলো, যখন সে সিংহকে দেখে তাকে কিছুমাত্র ভয় না পেয়ে তার সামনে গিয়ে বললো, কি গো বন্ধু, ভাল আছো তো?




ইঞ্জিনিয়ার কৃষক ও ব্যাবসায়ী - 

    একদেশে ৫০ জন ইঞ্জিনিয়ার আর ৫০ জন কৃষক ছিল। ইঞ্জিনিয়ার-রা তাদের গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিস্কার করতেন যা কৃষকদের অনেক কাজকেই সহজ করে দিত। অন্যদিকে কৃষকরা তাদের দিন-রাত ২৪ ঘন্টা পরিশ্রমে যে ফসল ফলাতেন তা তাদের ও ওই ইঞ্জিনিয়ারদের খাবারের চাহিদা পূরণ করত।

    এভাবে তাদের দিনগুলো খুব ভালই কেটে যাচ্ছিল, যতদিন না পর্যন্ত ওই দেশে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ী এলেন। সেই ব্যবসায়ী তার মেধা, বুদ্ধি ও চতুরতা দিয়ে ৫০ জন ইঞ্জিনিয়ারের প্রত্যেকের কাছেই বিক্রি করলেন তার প্রতিষ্ঠানের তৈরী কম্পিউটার। সব ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে কম্পিউটার বিক্রি করার পর টুকটাক মেরামত করা ছাড়া ওই ব্যবসায়ীর আর কোনো কাজ রইল না।

   তখন তার মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি আসল। তিনি কৃষকদের কাছে গিয়ে বললেন আহা, তোমরা কত কষ্ট কর। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। অথচ ফসল বেচে আর কটা টাকাই বা পাও? ইঞ্জিনিয়ারদের দেখ। তারা সারাদিন আরামে চেয়ারে বসে থাকে আর কম্পিউটারে গেম খেলে। অথচ মাস শেষে তারা কত্ত টাকা পায়।

   তারা চায় তোমরা খেত-খামারবন্দী থাক। তোমাদের এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে। একথা শুনে কৃষকরা ভাবলেন, ঠিকই তো। আমরা তো খেত-খামারবন্দী থাকতে পারি না। অতপর সেই ব্যবসায়ী কৃষকদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেন এবং ধীরে-ধীরে তাদের সবার কাছেও তার প্রতিষ্ঠানের তৈরী কম্পিউটার বিক্রি করলেন।

   এদিকে স্বভাবগতভাবে পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল হওয়ায় কৃষকরা ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে বের ভালই করতে লাগলো। তারা সর্বোচ্চ পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ারের মত না হলেও দেখা গেল তাদের কেউ কেউ মধ্যম বা নিম্ন পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার থেকে যোগ্যতাসম্পন্ন। এভাবেই কৃষক ও ইঞ্জিনিয়ার, যারা এতদিন পরস্পরের সহযোগী ছিল, তারা হয়ে গেল পরস্পরের প্রতিযোগী।

Bangla Golpo - Khub sundor bangla golpo

হঠাৎ দেখা দিল নতুন সমস্যা। কৃষকরা সবাই ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে উৎসাহিত হয়ে পড়ায় কৃষি কাজ করার কেউ রইল না। ফলে দেশে দেখা দিল খাবারের সংকট। অন্যদিকে কৃষিকাজ না থাকায় ইঞ্জিনিয়াররাও আর নতুন কিছু আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছে না।


   ফলে তাদের মধ্যে দেখা দিল হতাশা ও হীনমন্যতা। উপায় না দেখে তারা সেই ব্যবসায়ীর কাছে ছুটে গেল সমাধানের জন্য। ব্যবসায়ীর তো তখন রমরমা ব্যবসা চলছে। আর কৃষক ও ইঞ্জিনিয়ারদের যার যার পেশায় ফিরে যাওয়ার উপদেশ দিয়ে নিজে ব্যবসা নষ্ট করার কোনো ইচ্ছে তার নেই। তাই তিনি এক অভিনব সমাধান দিলেন।


   তিনি সবাইকে বললেন যে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজও করা উচিত। সুতরাং এখন ইঞ্জিনিয়ার এবং কৃষক উভয়ই তাদের দিনের কিছু অংশে ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করেন আর কিছু অংশে কৃষিকাজ করেন। সবাই ভাবলেন সমাজে বুঝি শান্তি ও সমতা প্রতিষ্ঠা হল। কিন্তু না, দেখা দিল আরেক বিপত্তি।


   মেধাবী ও দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা কৃষিকাজের জন্য তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে যথেষ্ট সময় দিতে পারছেন না। ফলে এখন আর আগের মত নতুন নতুন আবিষ্কার হচ্ছে না। আবার দক্ষ কৃষকরা তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের চাপে কৃষিকাজে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন না। তাই এখন আর মাঠভরা ফসল হচ্ছে না। ফলে দুইটি ক্ষেত্রের মধ্যে শান্তি ও সমতা আনতে গিয়ে তাদের উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হল।



হাসির মাস্টার - bangla-golpo


   আমাদের মেসের ছোট ভাই তালহা। তার অদ্ভুত কীর্তি আর সবাইকে হাসিয়ে মন জয় করতে পারার জন্য আমরা তাকে হাসির মাস্টার বলে ডাকি। প্রতিদিন কোন না কোন কারণে সবাইকে হাসাবেই।


   একদিন যদি কাউকে না হাসাতে পারে সেদিন রাতে আর মনের দুঃখে ভাত খায় না। সারা রাত উপোস থেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে। তাই যেদিন রাতে তার না খেয়ে ঘুমানোর কাহিনী আরম্ভ হয় সেদিন রাতেই আমরা তার জন্য পছন্দের অনেক খাবার সামনে এনে হাজির করে রাখি।


   হাজারো হলেও মেসের একমাত্র ছোট ভাই। তার জন্য এইটুকু করব না তা কি হয়! কিন্তু একদিন রাতে চুপিচুপি ঘুম থেকে উঠে তার খাওয়া-দাওয়ার বেশ জৌলুশ দেখে ফেলি।


   তারপর বুঝতে আর বাকি রইল না যে মাঝে মধ্যেই নিজের পছন্দের বাহারী খাবারগুলো বিনামূল্যে খেতে পারে বলে এভাবে না খেয়ে ঘুমানোর চালাকি করে। তারপর সবার সামনে তাকে এনে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে উত্তর দেয়, আসলে বড় ভাইয়েরা কি রকম চালাক সেটাই দেখতে চাচ্ছিলাম এই আর কি!

সেদিনকে কলেজে গিয়ে নোটিশ বোর্ডে তাকিয়ে দেখি সামনের শুক্রবারে নতুন ছাত্রদের আগমনী উপলক্ষে মজার এক শিক্ষামূলক নাটকের অনুষ্ঠান হবে। খুশির সংবাদটা মেসের সবার কানে পৌঁছে দেওয়ার আগেই যে যার মত অভিনয়ের পাঠ বেছে নেওয়া শুরু করে দিয়েছে।

   সবাই এ নাটকে অভিনয়ের জন্য পুরোপুরি রাজি। কিন্তু তালহার ভিন্নধর্মী রাজি হবার দৃশ্যটা দেখেতো অট্টহাসির বন্যায় সবাই ভেসে গেলাম। উঠোনে ধারে কাঁঠাল গাছটার উপরে চেয়ে দেখি এক পা গুঁটিয়ে রেখে আরেক পায়ে সটাং আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

   মানেটা বুঝাচ্ছে যে, অভিনয়ের জন্য সে এক পায়ে খাড়া। পরদিন আনন্দের সহিত কলেজে গিয়েই একটা দুঃসংবাদ কানে আসল। নাটকের জন্য একটা অভিনেতাও কলেজ থেকে সিলেক্ট করা হয়নি।

   সবগুলোই বাহির থেকে ভাড়া করা। মুহূর্তের মধ্যেই সবার চোখ-মুখে আঁকা স্বপ্নগুলো হাওয়া হয়ে উড়ে গেল। সবথেকে যে বেশি কষ্ট পেল সে হল তালহা। তবুও কেউই তেমনটা ভেঙে পড়লাম না।

অনুষ্ঠানের দিনটা ঠিক সময়েই এসে গেলে আমরা সবাই সবকিছু ভুলে কলেজে চলে আসলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই নাটকের সব আয়োজন শুরু হয়ে গেল। অনেক দর্শকের ভিড় ঠেলে কোনমতে এক কোণায় বসে নাটক দেখতে লাগলাম সবাই।

  মাঝে মাঝেই দর্শকদের উল্লাসিত করতালি আর অভিনয়ের আনন্দে মঞ্চ কেঁপে উঠছে বারবার। এভাবে চলতে চলতে নাটকের যখন একেবারে প্রায় শেষ মুহূর্তে চলে এসেছে এমন সময় অনাকাক্সিক্ষত এক ঘটনা ঘটে গেল।

   উত্তেজনার বশে অভিনেতারা এক এক করে স্টেজে উঠছে আর ধপাৎ করে জ্ঞানশূন্য হয়ে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ছে। চারদিকে তুমুল স্বরে হৈচৈ পড়ে গেল। দর্শকদের চেঁচামেচি থামাতে জনাব প্রিন্সিপ্যাল স্যার নিজে স্টেজে উঠে গলা ফাটাতে শুরু করলেন।


Bangla Golpo - Khub sundor bangla golpo

   কিন্তু সব প্রচেষ্টাই যখন ব্যর্থ হয়ে যাবার মত অবস্থা এমন সময় স্টেজের দিকে তাকিয়ে দেখি সাতটা টুপি মাথায় দিয়ে আর সাতটা শার্ট গলায় বেঁধে কে যেন একা একাই অভিনয় করতে শুরু করেছে।

   পরনের ছেঁড়া লুঙ্গি মাথায় বাঁধা দেখে বুঝতে আর বাকি রইল না যে এটা আমাদের হাসির মাস্টার তালহা। মস্ত একটা হিজড়া পাগলের অভিনয় শুরু করে দর্শকদের হাসাতে হাসাতে পেটে খিল দেওয়ার মত অবস্থা করে ফেলেছে।

   শেষমেশ হাসাহাসির কীর্তিতে অনুষ্ঠানটা শেষ হলে প্রিন্সিপ্যাল স্যার নিজে স্টেজে উঠে সবার সামনে তালহাকে নিয়ে তার কলেজের একটা গর্বের কথা তুলে ধরলেন। তারপর ভাড়া করা অভিনেতাদের জন্য বাজেট করা সমস্ত অর্থের সমপরিমাণ টাকা তালহার হাতে তুলে দিলেন।

   এমন আনন্দের দিনে আমরা সবাই যখন পুরো রাস্তায় আনন্দ মিছিল করে মেসে ফিরলাম তখন তালহার মুখে হঠাৎ একটা আজব খবর শুনেতো আমরা পুরোপুরি হতবাক হয়ে গেলাম।

তার মানে নাটকের শেষ প্রান্তে এসে সবার ঘুমিয়ে পড়ার একমাত্র কারণ হল সে। কিন্তু কিভাবে? জানতে চাওয়ার উত্তরে সে বলল-তাকে অভিনয়ে কোন জায়গা দেওয়া হয়নি বলে মনে মনে সে একটা প্লেন এঁকেছিল।

    অনুষ্ঠানের বিরতিতে ওয়েটার সেজে সকল অভিনেতাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করেছিল তারা কি খেতে চায়? সবাই চা নাস্তার কথা বললে নিজে চা বানিয়ে সবার কাছে হাজির করল ঠিকই কিন্তু প্রত্যেকটা চায়ের কাপেই একটা করে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে দিয়েছিল।

   তারপর যা ঘটার তাই ঘটল! স্বাদেই কি আমরা তালহাকে হাসির মাস্টার বলে ডাকি। কিন্তু হাসির মাস্টার যে এভাবে বুদ্ধির মাস্টারও বটে তাতো কোনদিন জানা ছিল না!



লোভী ইদুর - bangla-golpo


   অনেক দিন আগের কথা। একটি ছোট গ্রামে বাস করত এক বৃদ্ধ চাষী। তার ছিল কিছু কৃষি জমি। এ জমিতে সে গমের চাষ করত এবং গম থেকে তৈরি রুটি খেয়ে জীবনধারণ করত।

   প্রতিবছর তার জমিতে প্রচুর গম হতো। কৃষক তার উৎপাদিত গম বড় বড় বস্তায় ভরে ঘরের এক কোনায় রেখে দিত। একদিন দুটি ইঁদুর এই গম দেখতে পেল এবং সঙ্গে সঙ্গেই তারা একটা পরিকল্পনা আঁটলো। তারা ঘরের দেয়ালে একটি গর্ত করল।

    কৃষক বাইরে চলে গেলেই ইঁদুর দুটি গর্ত থেকে বেরিয়ে আসত এবং বস্তা ছিদ্র করে গম বের করে নিজেদের গর্তে নিয়ে যেত। এভাবে দিন যেতে থাকল এবং একসময় অনেক গম তাদের গর্তে জমা হলো। একদিন এক ইঁদুর অপর ইঁদুরকে বলল শোনো বন্ধু!

    আমরা অনেক গম জমা করেছি। কৃষক জানার আগেই আমাদের গম নেয়া বন্ধ করা উচিত। আর তা না হলে আমরা বিপদে পড়ে যেতে পারি। দ্বিতীয় ইঁদুরটি বলল তুমি এসব কি বলছ? আমরা কখনো এমন সুযোগ আর পাব না। কৃষক জানার আগেই চল আমরা আরো গম মজুত করি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

    প্রথম ইঁদুরটি বলল আমি আর তোমার সঙ্গে আসতে চাই না। কারণ, আমি আমার জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চাই না। জবাবে দ্বিতীয় ইঁদুর বলল তুমি আস্ত একটা ভীতু। আগামীকাল থেকে আমি একাই এখানে আসব এবং গম নিয়ে গর্ত ভর্তি করব।

   তোমার মতো একজন ভীতু বন্ধুর আমার প্রয়োজন নেই। পরের দিন থেকে লোভী ইঁদুরটি তার নিজের জন্য আরো গম সংগ্রহ শুরু করল। একদিন কৃষক মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল যে, তার গমের বস্তাগুলো পরীক্ষা করে দেখবে।

    গমের বস্তার কাছে গিয়ে কৃষক দেখতে পেল সবগুলো বস্তাতেই শুধু ছিদ্র আর ছিদ্র। এতে তার খুব রাগ হলো। সে ইঁদুর ধরার জন্য একটি ফাঁদ বস্তার কাছে পেতে রাখল। লোভী ইঁদুরটি যখন গম নিতে বস্তার কাছে এল অমনি সেই ফাঁদে আটকা পড়ে গেল। তারপর কৃষকের হাতে জীবন গেল লোভী ইঁদুরের।



 শিয়ালের শাস্তি - bangla-golpo


    এক চাষী তার বাড়ীতে মুরগি পালত। ওই বাড়ীর পাশেই বাস করত একটি শেয়াল। মুরগি দেখলেই শেয়ালের জিভে পানি এসে যেত। আর তাই ধুর্ত শেয়াল প্রতিদিন মাঝরাতে চুপিসারে খাঁচায় ঢুকে একটি করে মুরগি খেয়ে ফেলত।

    অবশ্য আরো বেশি খেতে যে ওর লোভ হতো না তা নয়। কিন্তু মনে মনে ভাবত যদি বেশি বেশি খেয়ে ফেলি তাহলে চাষী টের পেয়ে যাবে। আর তখনই আমাকে ধরার জন্য ফাঁদ পাতবে। তার চেয়ে বরং একটি করেই খাই। কথায় বলে না, অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।

    এভাবে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর একদিন সকালে চাষী গেল খাঁচা থেকে মুরগি ছেড়ে দিতে। কিন্তু আশপাশে তাকিয়ে মাটির ওপর শেয়ালের পায়ের ছাপ দেখতে পেল। তার মনে সন্দেহ হলো শেয়াল নিশ্চয়ই তার মুরগি খেয়ে ফেলেছে।

    তারপর সে খাঁচার দরজা খুলে দিয়ে এক এক করে মুরগি গুনতে লাগল। কিন্তু একি? অনেক মুরগি কমে গেছে! চাষীর আর বুঝতে বাকী রইল না যে, রাতের অন্ধকারে শেয়াল এসে মুরগি খেয়ে যাচ্ছে। ওইদিনই চাষী শেয়ালকে উচিত শিক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাঁচার চারপাশে জালের ফাঁদ বিছিয়ে দিয়ে চাষী একপাশে ওঁৎ পেতে বসে রইল। এদিকে প্রতিরাতের মত আজও শেয়াল এল মুরগি ধরতে। কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা সে খাঁচার দিকে পা বাড়ালো। আর এমনি চাষী ফাঁদ ধরে দিল টান।

    মুহূর্তেই শেয়াল জালের ভেতর আটকা পড়ে গেল। শেয়ালকে হাতের মুঠোয় পেয়ে রাগে চাষীর গা রি রি করতে লাগল। চরম শিক্ষা দেয়ার জন্য সে শেয়ালের লেজে আগুন ধরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। যেমন ভাবা তেমন কাজ। তেলের পাত্রে একটা ন্যাকড়া ভিজিয়ে শেয়ালের লেজে বেধে তারপর আগুন ধরিয়ে দিল।

     দেখতে দেখতে লকলক করে জ্বলে উঠল আগুন। শেয়াল সেখান থেকে পালানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে লাগল। মুহূর্তের আগুন লেগে গেল ফাঁদ পাতা জালে। জাল পুড়ে যেতেই শেয়াল ছাড়া পেয়ে গেল। এরপর প্রাণ বাঁচানোর জন্য দিশেহারা শেয়াল দিল ভোঁ দৌড়।

    লেজের আগুন নেভানোর জন্য সোজা চাষীর ধানক্ষেতের মাঝ বরাবর দৌড়াতে লাগল। পাকা ধানক্ষেতের মধ্যদিয়ে যাওয়ার সময় শেয়ালের লেজের আগুন মুহূর্তেই লেগে গেল ধানগাছে। আর অমনি দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুন।


Bangla Golpo - ১০ ti sundor bangla golpo

    শেয়াল কোনমতে জ্বলন্ত মাঠ থেকে বাইরে গিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর শেয়ালের লেজের আগুন নিভে গেল। পেছনে তাকিয়ে শেয়াল দেখতে পেল পুরো মাঠজুড়ে আগুন আর আগুন।

অসহায় চাষী দূর থেকে তার ধানক্ষেত পুড়ে যেতে দেখে হতাশ হয়ে পড়ল। ধপ করে মাটিতে বসে সে বলতে লাগল হায় হায়! শেয়ালকে শাস্তি দিতে গিয়ে আমার এতবড় শাস্তি হল! আহা! শেয়ালটাকে এতবড় শাস্তি না দিয়ে যদি দু'চার ঘা লাগিয়ে দিতাম তাহলেই তো চুরি করে আমার মুরগি খেতে আসতো না। লঘু পাপে গুরু দণ্ড দিতে গিয়েই তো আমার এতবড় ক্ষতি হল।



শিয়ালের নিমন্ত্রণ - bangla-golpo


   একদিন এক শেয়াল নিমন্ত্রণ করল এক সারস পাখিকে। নিমন্ত্রণের দিন শেয়াল খুব যত্ন করে পায়েস রান্না করল। রান্নাবান্না শেষে টেবিলের দু'পাশে রাখল দুটি প্লেট আর মাঝখানে রাখল পায়েসের বাটি। এরপর মনে মনে বলল সারস ভায়া জীবনেও এই ভোজের কথা ভুলবে না।

     উঃ আমার আর তর সইছে না, কখন যে দেখব মজাটা! ঠিক এই সময় দরজা টোকা পড়ল। শেয়াল মুচকি হেসে দরজা খুলে দিতেই দেখতে পেল সারস তার লম্বা ঠোঁটে হাসি মেখে হাজির। শেয়াল স্বাগত জানিয়ে বলল আরে সারস ভায়া, এসো এসো, রান্নাবান্না সব তৈরি।

     আগে খাওয়া দাওয়াটা সেরে নেই তারপর বসে গল্পসল্প করা যাবে। শেয়াল আর সারস পাশাপাশি খেতে বসল। শেয়াল তার লম্বা জিভ দিয়ে সুড়ুৎ সুড়ুৎ করে চেটে চেটে প্লেটের সব পায়েস শেষ করে ফেলল। কিন্তু সারস বেচারা তার ছুঁচালো লম্বা ঠোঁটটা কয়েকবার প্লেটে ডোবানোর চেষ্টা করল কিন্তু মুখে পায়েস উঠল না।

     এ দৃশ্য দেখে শেয়ালের মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠল। সারসকে জব্দ করতে পেরে তার খুশির যেন শেষ নেই। শেয়ালের চালাকি বুঝতে পেরে সারসও খানিকটা ভনিতা করে বলল এই যা শেয়ালভায়া! একটা কথা তো তোমাকে বলতেই ভুলে গেছি। আজ যে আমি উপোস। এইমাত্র কথাটা মনে পড়ল।

তোমার পায়েস খেতে পারছি না বলে মনে কিছু কর না ভাই। এরপর সারস শেয়ালকে তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য দাওয়াত দিল এবং কিছুক্ষণ পর চলে গেল। পরদিন শেয়াল গেল সারসের বাড়ি। কিছু গল্প-আলাপ করার জন্য শেয়াল আর সারস আরাম করে চেয়ারে বসল।

    টেবিলের দিকে তাকিয়ে শেয়ালের তো চক্ষুস্থির! টেবিলে সাজানো আছে দুটো সরু কলসি। তাতে কানায় কানায় ভর্তি করে ঢালা হয়েছে রসালো পায়েস। সারস শেয়ালকে উদ্দেশ্য করে বলল, জানি-তুমি পায়েস খেতে ভালবাস তাই আজ খুব যত্ন করে পায়েসই রাঁধলাম।

    এই বলে সারস কলসিতে লম্বা ঠোঁট ডুবিয়ে পায়েস খেতে মন দিল। কিন্তু শেয়াল বেচারা গোমড়ামুখে বসে রইল। তার তো আর সারসের মত লম্বা ঠোঁট নেই যে, কলসতে তা ডুবিয়ে পায়েস খাবে? কিছুক্ষণের মধ্যে সারস সব পায়েস খেয়ে সাবাড় করে ফেলল।

    এরপর ঢেকুর তুলে বলল আরে একি শেয়ালভায়া! তুমিতো কিছুই খেলে না। সব পায়েসই তো পড়ে রইল। সারসের কথাগুলো শেয়াল কি জবাব দেবে ভেবে পেল না। সারসের সঙ্গে সে যে প্রতারণা করেছে তার জবাব পেয়ে লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে রইল।



শিয়াল ও কাক - bangla-golpo


     এক কাক এক টুকরো মাংস চুরি করে এক উঁচু গাছের ডালে গিয়ে বসল। মাংসের টুকরোটা তার দু ঠোঁটের মাঝখানে ধরা। এই সময় এক শেয়াল তাকে দেখতে পেয়ে এক শয়তানী ফন্দী আঁটল। উদ্দেশ্য, ঐ মাংসের টুকরোটা হাতিয়ে নেওয়া।

    কাককে উদ্দেশ্য করে আফসোস করার ভঙ্গি করে বলতে লাগলো ইস কি সুন্দর তোমার চেহারা, খাড়া ঠোট, চকচকে কালো গায়ের রং। ব্লাক ডায়মন্ড বললেও যেন ভুল হবেনা। কিন্তু আফসোস, ফেসবুকে তোমার কোন একাউন্ট নাই। থাকলে আমার মতও তুমি সেলফি তুলে আপলোড করতে পারতে।

    কিন্তু কি আর করবে তোমার তো আর স্মার্টফোন নেই যে সেলফি তুলে আমার মতো আপলোড করবে। এক কাজ করতে পারো। নিচে আসো। আমার ফোন দিয়ে দুইজনে মিলে একটা সেলফি তুলে আমার আইডিতে শেয়ার করে দিচ্ছি। এরপর তোমাকে একটা আইডি ওপেন করে দিয়ে প্রমোট করে দিচ্ছি।

    দেখবে চোখের পলকেই তোমার হাজার হাজার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট চলে আসবে। আর চাইলে তুমি মাঝে মাঝে এসে আমার সেট থেকেই নটিফিকেশন চেক করতে পারবে। স্ট্যাটাসও দিতে পারবে। আমি মাইন্ড করবো না। এতোক্ষণ ধরে কাক শিয়ালের কথা শুনে রাগে ফোস ফোস করতেছিল।

শালার কোথাকার কোন শিয়ালের কত বড় সাহস! আমাকে এইভাবে অপমান করে? কাক তার পকেট থেকে তার নকিয়া লুমিয়া ৭২০ সেটখানা বের করে শিয়ালকে দেখিয়ে বললে লাগলো ওরে বেক্কল শিয়াল, এই যুগে কি কারো কাছে স্মার্টফোন না থাকে?

    এই দেখ আমিও স্মার্টফোন চালাই। আর আমিও সেই ২০০৮ থাইক্কা ফেসবুক ইউজাই। আমার ফলোয়ারের সংখ্যা কত জানো চান্দু? ৫০হাজার !!! আর তুমি আইছো আমারে ফেসবুক শিখাতে!! শিয়ালকে কথাগুলি শুনিয়ে কাক খুব মজা পেল।

    কিন্তু কখন যে তার ঠোঁট থেকে মাংসের টুকরাটা নিচে পড়ে গেছে সেটা সে খেয়ালই করেনি। শিয়াল মাংসের টুকরাটা নিজের কব্জায় নিয়ে তাচ্ছিল্য ভরে বলতে লাগলো ওরে বোকা কাক, তোর স্মার্টফোন থাকতে পারে, ফেসবুকে হাজারও ফলোয়ার থাকতে পারে, কিন্তু তুই নিজে একটুও স্মার্ট না।

   একটা হাদারাম মাত্র। হাহাহা !!! বলেই শিয়াল মাংসের টুকরা মুখে নিয়ে বনের ভেতরে চলে গেলো।



শিয়াল ও  চিতাবাঘ - bangla-golpo


   এক শেয়াল আর এক চিতাবাঘের মধ্যে তর্ক চলছিল কে বেশী সুন্দর তাই নিয়ে। চিতাবাঘ তার গায়ের একটার পর একটা বাহারী ছবির মত দাগ দেখিয়ে প্রমাণ করতে লাগলো সে দেখতে কত সুন্দর। শেয়ালকে সে বলতে লাগলে তুমি জানো আমার ফটোতে কয়টা করে লাইক পড়ে?

   সে সম্পর্কে তোমার কোন ধারনাই নাই। শিয়াল বললো আমিতো কোন ফটোই আপলোড করিনা। আমার লেখা রোমান্টিক গল্প আর কবিতা পড়েই শিয়ালীরা আমার প্রেমে পড়ে যায়। ওরে সুদর্শন চিতাবাঘ, শুধু সুন্দর চেহারা থাকলেই প্রেম করা যায়না।

    ভেতরে রোমান্স থাকতে হয়রে পাগলা। আমিতো জানি, তুই এই পর্যন্ত একটাও প্রেম করতে পারিস নাই। আর আমার পিছে শিয়ালীদের লাইন লেগে থাকে।

শিয়ালের কথা শুনে চিতাবাঘের মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। সত্যিই তো সে এ পর্যন্ত একটা প্রেমও করতে পারলোনা। আর ওর চোখের সামনে দেখিয়ে দেখিয়ে একটার পর একটা প্রেম করে যাচ্ছে শিয়াল।
   
    চিতাবাঘকে তার স্মার্টফোনে একটি সুন্দরী শিয়ালীর ছবি দেখিয়ে শিয়াল বলতে লাগলো এই দেখ এর নাম নায়লা। আজ ওর সাথে ফাস্ট ডেটিংয়ে যাচ্ছি। দোয়া রাখিস। বলেই শিয়াল নায়লাকে রিপ্লাই করলে সো, তাহলে আজ দেখা হচ্ছে?




শক্তিশালী - 

   এক বনের কিনারে ছিল এক বিরাট গাছ। তার শিকড় যেমন মাটির অনেক গভীরে পৌঁছেছিল তেমনি ডালপালাও চারপাশের অনেকখানি জায়গা জুড়ে ছড়িয়েছিল। তার ঘন পাতার রাশি সূর্য়ের আলো প্রতিরোধ করে মানুষকে ছায়া দিত।

    গাছটিতে অসংখ্য পাখি বাস করত। মানুষ ও পাখির সমাগমে গাছটির চারপাশের এলাকা মুখরিত থাকত।এই বিরাট গাছের নিচে একটি গাছের চারা গজিয়ে ওঠে। এটি ছিল একটি নমনীয় ও নাজুক হলদি গাছ। সামান্য একটু বাতাসেই তা নুয়ে পড়ত।একদিন দু প্রতিবেশী কথা বলছিল।

    হলদি গাছকে লক্ষ্য বড় গাছটি বলে ওহে খুদে প্রতিবেশী, তুমি তোমার শিকড়গুলো মাটির আরো গভীরে প্রবেশ করাও না কেন? কেন আমার মত মাথা উঁচু করে দাঁড়াও না? হলদি গাছ মৃদু হেসে বলে তার কোন প্রয়োজন দেখি না। আসলে এ ভাবেই আমি নিরাপদ আছি।নিরাপদ! তুমি কি মনে কর যে তুমি আমার চেয়ে নিরাপদ আছ?

   তুমি কি জান আমার শিকড় কত গভীরে প্রবেশ করেছে? আমার কাণ্ড কত মোটা ও শক্ত? এমনকি দুজন লোক মিলেও আমার কাণ্ডের বেড় পাবে না। আমার শিকড় উৎপাটিত করবে ও আমাকে ধরাশায়ী করবে এমন কে আছে?

গাছটি হলদি গাছের দিক থেকে বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কার ভাগ্যে কখন কী ঘটে তা কে বলতে পারে? একদিন সন্ধ্যায় ওই এলাকার ওপর দিয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ে শিকড়সহ গাছ উপড়ে পড়ে, বনের গাছপালা একেবারে ধ্বংস হয়ে যায়।

   ঝড়ের পর গ্রামবাসী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখতে বের হয়। আকাশচুম্বী গাছগুলোর অবস্থা শোচনীয়। সেগুলো হয় উপড়ে পড়েছে অথবা ভেঙে চুরে শেষ হয়ে গেছে। সারা বনের মধ্যে যেন গাছপালার কঙ্কাল ছড়িয়ে আছে।

   এর মধ্যে শুধু একটি ব্যতিক্রম সবার নজর কাড়ে। তা হলো হলদি গাছ। সেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল ঝাপটার শিকার হয়ে এদিক ওদিক হেলে পড়েছে কিংবা মাটিতেও লুটিয়ে পড়েছে। ঝড় শেষ হয়ে যাবার পর সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ও আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তার বিরাট প্রতিবেশীর কোনো চিহ্নও নেই।




    

    তো বন্ধুরা কেমন লাগলো উপরের এই দশটি ছোট গল্প ? যদি ভালো লাগে তবে যেনো কমেন্ট করতে ভুলে যেওনা। আর এই ধরনের bangla golpo বাংলা গল্প আরও পেতে আমাদের ওয়েব সাইটে নজর রাখো, ধন্যবাদ :))