Friday, July 31, 2020

New Bangla Golpo || নতুন বাংলা গল্প

বাংলা গল্প bangla golpo নতুন নতুন গল্প পেতে ও পড়তে হলে আমাদের এখানে আপনি আসতে পারেন ও নতুন সমস্ত বাংলা গল্প গুলি পড়তে পারেন। আমাদের এখানে এই সকল গল্প গুলি আমরা এমন ভাবে লিখি যা খুব সহজে আপনার মজা দিতে পারে ।

   যদি এই ধরনের নীতি মূলক bangla golpo বাংলা গল্প বা শিক্ষা মূলক বাংলা গল্প পড়তে চান তবে এই লেখার মাধ্যমে আমি আপনাদের মত ১০ টি এমন গল্প বলবো যা খুব সহজেই আপনাদের ভালো লাগবে। গল্প গুলি ভালো লাগল আপনি পড়ুন আপনার প্রিয়জন দের পোড়ানোর জন্য গল্প টি শেয়ার করতে পারেন।
Bangla Golpo



Bangla Golpo -  তোমাকে পারতেই হবে 

    অনেক বড় একটা কোম্পানী হঠাৎ করে ব্যবসায় লোকসান করে বসলো।
এক দুপুরে সেই কোম্পানীর কর্মচারীরা বাইরের ক্যান্টিনে লাঞ্চ করে ফেরার সময় অফিসের প্রবেশমুখে একটি নোটিশ দেখতে পেল।

নোটিশে লেখা ছিল,
'আমাদের কোম্পানীর লোকসানের জন্য যে ব্যক্তিটি দায়ী, সে গতকাল মারা গেছে।

সেমিনার রুমে একটি কফিনে তার লাশ রাখা হয়েছে। যে কেউ তা দেখতে চাইলে আমন্ত্রিত।'

একজন সহকর্মীর মত্যুর খবর শুনে প্রথমে লোকেরা দুঃখ পেল।
তবে এরপর তারা কৌতুহলী হয়ে উঠলো এই ভেবে যে আসলে কে হতে পারে সেই ব্যক্তি।
তারা সবাই সেমিনার রুমে এসে একত্রিত হল,সবাই ভাবতে লাগলো,'আসলে কে সেই লোক যে আমাদের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল? 

তবে সে যেই হোক, এখন সে আর বেঁচে নেই।
একে একে তারা যখন কফিনের কাছে গেল এবং ভেতরে তাকালো হঠাৎ তারা কেমন যেন বাকশূন্য হয়ে গেল, হতভম্ভ হয়ে গেল। যেন তাদের খুব আপন কারো লাশ সেখানে রাখা ছিল।
কফিনের ভেতর আসলে রাখা ছিল একটা আয়না।
যে ভেতরে তাকিয়েছিলো সে তার নিজের চেহারাই দেখতে পাচ্ছিলো।

আয়নার একপাশে একটা কাগজে লেখা ছিল, তোমার সাফল্যের পথে বাধা দিতে সক্ষম শুধুমাত্র একজনই আছে গোটা পৃথিবীতে, আর সে হচ্ছো 'তুমি' নিজে।
তুমিই সেই একমাত্র ব্যক্তি যে তোমার জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, তোমাকে সুখী করতে পারে, তোমাকে সাহায্য করতে পারো,সুখী করতে পারো।

তোমার জীবন তখন বদলে যায় না, যখন তোমার অফিসের বস বদলায়, যখন তোমার অভিভাবক বদলায়, তোমার বন্ধুরা বদলায়, তোমার জীবন তখনই বদলায় যখন তুমি নিজে বদলাও।

তোমার সক্ষমতা সম্পর্কে তোমার নিজের বিশ্বাসের সীমাটা যখন তুমি অতিক্রম করতে পারো, শুধু তখনই তোমার জীবন বদলায়, পূরন হয় জীবনের লক্ষ্য গুলো।
নিজের আলোয় আলোকিত করো চারপাশ।


New Bangla Golpo


Bangla Golpo - প্রতিদান

     অনেক দিন আগের কথা। নীল আকাশের নিচে নীল সাগরের নীল পানিতে নীল জেলের বাস ছিল। তার নাম নীল কেন রাখা হয়েছে তা কেউ জানতনা। কিন্তু কাকতলীয় ভাবে নীল জেলের বেঁচে থাকার মাঝে প্রকৃতির কত নীলেরই সমাগম হয়েছিল।

ছোট্ট নীল জেলে প্রতিদিনই তার বাবাকে মাছ ধরতে সাহায্য করতে সাগরে আসত। সে খুব উদার ছিল। বাবার অলক্ষে অনেক বাচ্চা মাছকেই সে পানিতে ছেড়ে দিত। বাবার জালে আটকে থাকা মাছগুলোকে দেখে তার অনেক কষ্ট হত। কেমন ছট্ ফট্ করত ওগুলো।

একদিন হল কি, নীল জেলের বাবার জালে একটা কচ্ছপ আটকা পরল। কচ্ছপরা সব সময় ভান ধরে থাকতে পছন্দ করে। জালে আটকে যাওয়া কচ্ছপটিও মরার মত চুপটি মেরে রইল। নীল জেলের বাবা সেতিকে মরা মনে করে নৌকাতেই ফেলে রাখল। এদিকে কচ্ছপ ছানার যায় যায় অবস্থা।

 পানি ছাড়া আর কতক্ষণ বেঁচে থাকা যায়। সেদিন নীল আকাশের প্রখর সূর্যটা একটুকুও বিশ্রাম নিচ্ছিলনা। প্রচণ্ড রোদে কচ্ছপ ছানার শরির শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবার যোগার। কচ্ছপ ছানা দূর্বল হয়ে গেলেও বুদ্ধি লপ পায়নি। সে অনেকক্ষন ধরেই খেয়াল করছিল নীলের কান্ড কারখানা। সে বাবার জাল থেকে চুপ করে মাছ ছেড়ে দিচ্ছে। তাই সে মনে মনে চিন্তা করছিল, কখন সে নীলের চোখে পরবে।

বাবার সাথে মাছ সংগ্রহ করতে করতে নীল জেলে হাপিয়ে উঠেছিল। একটু বিশ্রাম নিবে বলে বসল। কিন্তু ভুল করে কচ্ছপ ছানাটির উপড়েই বসে পড়ল। ছোট্ট কচ্ছপ অনেক কষ্টে নড়ে উঠল। নীল ভয় পেয়ে গেল, তার নিচ থেকে কে নড়ছে?

   উঠে বসতেই দেখল, সে একটি ছোট্ট কচ্ছপের উপর বসে ছিল। কচ্ছপটির জন্য তার খুব মায়া হল। সে কচ্ছপটিকে আদরের সাথে হাতে নিল। মনে করেছিল কচ্ছপটি মারা গেছে। কিন্তু কচ্ছপটি তার খোলসের ভিতর থেকে মাথা বের করল, তা দেখে নীলের আনন্দ কে দেখে! সে নাচতে লাগল। 

নীল হঠাৎ নাচা নাচি বন্ধ করে দিল। কারন কেউ তাকে ডাকছিল কিন্তু কে সে তা বুঝতে পারছিলনা। একসময় বুঝতে পারল তার হাতে থাকা কচ্ছপটি তাকে ডাকছে। কচ্ছপটি মাথা বের করে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, “ও ভাই ছোট্ট জেলে, আমাকে পানিতে ছেড়ে দেওনা, আমি কচ্ছপদের কাছে ফিরে যাই”। নীলের খুব মায়া হল, সে তাকে পানিতে ছেড়ে দিল।

সন্ধ্যা বেলায় নীল সাগরের মাঝে প্রচণ্ড ঢেউ খেলতে লাগল। ঝড় উঠেছে কিন্তু নীলদের নৌকা তখনও পাড়ে আসতে পারেনি। একসময় নীলদের ছোট্ট নৌকাটা ঝড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ভেসে থাকতে পারলনা। সেটি ডুবে গেল। বাবা নীলের হাত ধরে ছিল, ঢেউয়ের প্রকোপে হাত ছুটে গেল।

    নীল পানিতে তলিয়ে যেতে লাগল। সে দেখল পানির তলায় পানিগুলো কেমন ভেংচি কাটছে। তার দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। ঠিক তখনই কিছু একটা তাকে পানির উপরে তুলে ধরল। নীল চেয়ে দেখল তাকে দুটি কচ্ছপ ভাসিয়ে ডাঙ্গায় নিয়ে যাচ্ছে। আর পাশ থেকে কানের কাছে চুপিচুপি কেউ বলে যাচ্ছে, “বন্ধু তোমায় প্রতিদান দিয়ে গেলাম”


New Bangla Golpo - নতুন বাংলা গল্প 


Bangla Golpo - ভালো কাজের ফল

   স্কটল্যান্ডের এক গরিব কৃষক। তার নাম ফ্লেমিং। একদিন তিনি জমিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ কাছের পুকুর থেকে চিৎকার ভেসে এলো, ‘বাঁচাও। বাঁ-চা-ও!’

তিনি কাজ ফেলে ছুটে গেলেন। সেখানে একটি ছোট ছেলে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। পানিতে হাত নাড়ছে আর আতঙ্কে চিৎকার করছে। কৃষক ফ্লেমিং ছেলেটাকে উদ্ধার করলেন। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ছেলেটা রেহাই পেল।

পরদিন সকালে একটা চমৎকার গাড়ি এসে থামল কৃষকের বাড়ির সামনে। মার্জিত পোশাক পরা এক ভদ্রলোক গাড়ি থেকে নেমে এলেন। কৃষক ফ্লেমিং যে ছেলেটিকে বাঁচিয়েছেন, ভদ্রলোক নিজেকে সেই ছেলেটির বাবা হিসেবে পরিচয় দিলেন।

‘আমি আপনাকে প্রতিদান দিতে চাই। আপনি আমার ছেলের জীবন বাঁচিয়েছেন।’ ভদ্রলোক বললেন।

‘না, আমি যা করেছি তার প্রতিদান নিতে পারব না। ক্ষমা করবেন।’ জবাব দিলেন সেই কৃষক। এমন সময় ঘর থেকে বেরিয়ে এলো তার ছেলে।

‘এটা কি আপনার ছেলে?’ ভদ্রলোক জানতে চাইলেন।

কৃষক গর্বের সঙ্গে জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, এ আমার ছেলে।’

‘আমি আপনাকে একটি প্রস্তাব দিতে চাই। আমার ছেলের মতো আপনার ছেলেকেও পড়ালেখা করানোর সুযোগ আমায় দিন। যদি আপনার সামান্য গুণও ওর মধ্যে থাকে

তাহলে নিশ্চয় একদিন এমন বড় মানুষ হবে- আমরা সবাই তাকে নিয়ে গর্ব করব।’

বাস্তবে সেটিই হল। কৃষক ফ্লেমিংয়ের ছেলেকে ভর্তি করানো হল সেরা স্কুলে। যথাসময়ে সেই ছেলেটি স্নাতক পাস করলেন লন্ডনের সেন্ট মেরিজ হসপিটাল মেডিকেল স্কুল থেকে। আর পেনিসিলিন আবিষ্কার করে সারা দুনিয়ায় তিনি পরিচিতি লাভ করলেন স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং হিসেবে।

কয়েক বছর পরের কথা। পুকুর থেকে বাঁচানো ভদ্রলোকের সেই ছেলেটি নিউমোনিয়ায় মারাত্মকভাবে ভুগছিলেন। মর মর অবস্থা।

সে সময়ে তার প্রাণ বাঁচল কিসে? সেই পেনিসিলিনে।

সেই ভদ্রলোকের নাম কী? লর্ড রানডলফ চার্চিল।

তার ছেলের নাম? স্যার উইস্টন চার্চিল।

নীতিকথা : ভালো কাজের ফল অবশ্যই ভালো হয়।




Bangla Golpo - প্রভুভক্ত কুকুর

    এক লোকের একটা প্রভু ভক্ত কুকুর ছিল। লোকটা যখন বাইরে থেকে বাড়িতে আসতো কুকুরটি তখন লোকটার পায়ের কাছে এসে লেজ নাড়াতে নাড়াতে মালিকের কাপড় টানাটানি করতে থাকতো। লোকটি যখন খেতে বসতো কুকুরটি তখন সামনে এসে বসে থাকতো। মালিক কিছু দিলে তাই খেতো।

   একদিন দুপুর বেলা লোকটি যখন খেতে বসলো, কুকুরটি তখন বরাবরের মত লোকটির সামনে এসে বসে ছিল আর লেজ নাড়িয়ে, নাড়িয়ে মালিকের খাবার খাওয়া দেখছিল। লোকটি অনেক্ষন যাবত কুকুরতিকে কিছু খেতে দিচ্ছিলো না।

   এক পর্যায় কুকুরটি তার অবস্থান ছেড়ে মালিকের কাছাকাছি চলে গেলো, মালিক যদি কিছু খেতে দেয় সেই আশায়। কিন্ত তখন লোকটির মাথায় বিভিন্ন টেনশন ছিল, আর ভেতরে ভেতরে অনেক রাগ কাজ করতেছিল।

   কুকুরটি যখন খাওয়ার জন্য লোকটির কাছে যেয়ে মুখ বাড়িয়ে দিল, তখন লোকটি উত্তেজিত হয়ে তার ভেতরের সব রাগ সেই কুকুরটির উপরে ঝাড়লো। কুকুরটাকে লোকটি ইচ্ছেমত মারলো। অবলা কুকুর আর কি বলবে?

   মাথা নিচু করে মালিকের মার খেলো এবং ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে উঠানের এক কোনে মাথা নিচু করে বসে রইলো। এরপর লোকটি বাইরে থেকে রাত্রে যখন বাড়িতে এলো, তখন লোকটি তার সেই প্রভু ভক্ত কুকুরটিকে আর দেখতে পেলোনা। লোকটি সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজলো কিন্ত কুকুটিকে আর পেলোনা।

তখন লোকটি আফসোস করতে লাগলো হায়, কুকুরটিকে এভাবে বোধ হয় আমার মারা ঠিক হয়নি। লোকটি পরের কিছুদিন সারা এলাকা ঘুরে ঘুরে অনেক খুঁজলো তবুও কুকুরটিকে আর পাওয়া গেলো না।

   এরপর, মাস তিনেক বাদে লোকটি দুই এক গ্রাম পরে একটা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো, তখন লোকটি দেখতে পেলো একটা দোকানের পাশে তার সেই কুকুরটি মাথা মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে কেমন মন মরা হয়ে শুয়ে আছে।

    তখন লোকটি দৌড়িয়ে গেলো সেই কুকুরটার কাছে। লোকটিকে দেখে কুকুরটা লেজ নাড়াতে নাড়াতে তার পায়ের কাছে এসে সাম্নের দু পা ভাছ করে মাথা নিচু করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে শুয়ে পড়লো। পাশের দোকানদার লোকটিকে বলতে লাগলো, ভাই কুকুরটা কি আপনার? লোকটি বলল, হ্যাঁ আমার... দোকানদার লোকটিকে বলল, ভাই অনেক কুকুর দেখেছি যারা খেতে না দিলেও চুরি করে খায়।


Bangla Golpo - নতুন বাংলা গল্প 

   আর এই কুকুরটা গত তিন মাস যাবত আমার দোকানের সামনে পড়ে আছে, কুকুরটির সামনে রুটি ,বিস্কুট আরও অনেক কিছু, এমনকি গোশত দিয়েও চেষ্টা করেছি, কিছুতেই খায় না..কোন কিছুই খাওয়াইতে পারলাম না। ভাই কুকুরটা কি কিছুই খায় না? লোকটির আর বুঝতে বাকি রইলো না।

   লোকটির দুই চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকলো, লোকটি কুকুরটাকে দুই হাতে কোলে তুলে নিয়ে চিৎকার দিয়ে কানতে লাগলো আর বলতে লাগলো হায়রে... তুই সামান্য কুকুর হয়ে তোর মালিকের কথার অবাধ্য হলিনা। আমি খাইতে দেইনি বলে গত তিন মাস তুই না খেয়ে রইলি!

   আর আমি মানুষ হয়ে আমি আমার মালিকরে চিনতে পারলাম না... যে মালিক আমারে খাওয়াইলো আমারে সৃষ্টি করলো তারে কখনো ডাকলাম না। কতটা কপাল পোড়া আমি। তুই কুকুর হয়েও তোর প্রভুরে চিনলি আর আমি মানুষ হয়ে আমার প্রভুরে চিনলাম না... এরপর থেকে লোকটি এমন ভাল হয়ে গেলো যে লোকটি আর কখনো বোধ হয় বেঁচে থাকা অবস্থায় আল্লাহর রাস্তা থেকে সরে নি।



Bangla Golpo - চতুর নেকড়ে


    একদল চতুর নেকড়ে এক বনে বাস করত। ওই বনে অনেকগুলো কুকুরও থাকত। চতুর নেকড়েরা একদিন কুকুরদের ডেকে বলল, কুকুর ভাইসব তোমাদের একটা কথা বলি। কথাটা বলতে অনেক দিন ধরে ইচ্ছে করছে, বলি বলি করেও বলতে পারিনি।

   একটু মন দিয়ে শোন। ভাইসব, মানে বলেছিলাম কী, তোমাদের আর আমাদের চেহারা তো অবিকল এক, তাহলে এসো না আমরা সব একসঙ্গে মিলেমিশে ভাই-ভাইয়ের মতো থাকি। তোমাদের আর আমাদের মাঝে ফারাক তো নেই যে ফারাকাটুকু আছে তা হলো শুধু জীবনযাত্রার।

    আমরা স্বাধীন জীবনযাপন করি, আর তোমরা ক্রীতদাসের মতো মানুষের সঙ্গে ঘুরে বেড়াও, তাদের পায়ে পড়ে থাক। মানুষ তোমাদের গলায় শেকল পরিয়ে দিয়ে তোমাদের দিয়ে তাদের ভেড়ার পাল পাহারা দেয়ায়। তাদের খাওয়ার শেষে মাংসের যে হাড়গোড়গুলো পড়ে তাকে সেগুলো তাচ্ছিল্য ভরে তোমাদের দিকে ছুড়ে দেয়।

    আর তোমরা তা চেটেপুটে মনের আনন্দে খাও। এই তো তোমাদের জীবন। ভাইসব, মন দিয়ে শোন আমরা তোমাদের ভালো পরামর্শ দিচ্ছি। তোমাদের পাহারায় যে ভেড়াগুলো আছে সেগুলো আমাদের হাতে ছেড়ে দাও, তারপর এসো দু দলে ওগুলো খুব মজা করে খাই।

    নেকড়েদের উপদেশে কুকুরগুলো গলে গেল। তাদের উপদেশ কুকুরদের বেশ মনে ধরল। অতএব নেকড়েরা ভেড়ার খোঁয়াড়ের মধ্যে ঢুকেই প্রথমে শেষ করল কুকুরগুলোকে। তারপর নিশ্চিন্ত মনে একে একে ভেড়াগুলোকে সাবাড় করল।



Bangla Golpo - শিয়ালের চালাকি


    দূরদেশে কোন এক বনে এক চালাক শিয়াল ছিলো, শিকার নিয়ে একদিন সিংহর সাথে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে সিংহ মারলো এক খামচি আর অমনি শিয়ালের লেজ খসে পড়লো। মনের দুঃখে শিয়াল এবার আরেক বনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।

   ব্যথায় তার পাছু লাল, এদিকে বিশাল খামচির দাগও আছে। অনেক হেঁটে শিয়াল আরেক বনে এসে পৌছালো। এসে দেখে এই বন হলো গিয়ে কুকুরের। শিয়াল মনে মনে ভাবলও, ভালোই হলও কুকুর গুলো দেখতে অনেকটা আমার মতই (শিয়াল আর কুকুর দেখতে মনে হয় কাছাকাছি), তো এদেরকে একটু বোকা বানানো যাক।

   যেই কথা সেই কাজ। শিয়াল যেদিক দিয়েই যায় সবার দিকে তাকিয়ে টিটকারি দেয়, আর বলে তোমরা মূর্খ!!! কুকুর গুলো সবাই সবার মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে তাকায়, আর ভাবে বাপ রে বাপ না জানি ওর কত বিদ্যা! সবাইকে পচাইতে পচাইতে একদিন শিয়াল কুকুর দের রাজার কাছে গিয়ে পৌছালো।

    সেখানে গিয়েও শিয়াল কুকুর রাজাকে বললও, ব্যাটা তুই রাজা কিভাবে হইছিস? জানিস না আমি তোর থেকে বেশি স্মার্ট। রাজা জিজ্ঞাসা করলো, ক্যাম্নে কি? আমার থেকে তুই ক্যাম্নে স্মার্ট হইলি? শিয়াল তখন রাজাকে ফাপর দিয়ে বলে ফেললও, ব্যাটা বেয়াদব জানিস না আমি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট পোস্ট ডক্টরেট সব করে এসেছি।

    ওখানে আমার পিএইচডির সাব্জেক্ট ছিলো, মডার্ন শিকার কৌশল। আমি ওইখানে এতো ভালো রেজাল্ট করেছি যে ওরা সম্মান দিয়ে আমার লেজ ওখানে রেখে দিয়েছে। রাজা ভাবলো, খাইসে রে। এতো দেখি পুরাই টাশকি মাল!!! ফাঁপরের চোটে বনের সবাই রাজাকে বললও সিংহাসন ছেড়ে যেনও শিয়ালকে নতুন রাজা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেয় এবং আন্দোলন ফান্দোলন করে সবাই শিয়াল কে শেষ পর্যন্ত রাজাও বানায় দিলো।

শিয়াল তো মহা খুশি, কি বেকুব জাতি। যা বললাম, তাই বিশ্বাস করলো। বিশ্বাস তো করলই, রাজাও বানায় দিলো। যাহ্‌ আমারে আর পায় কে...!!! খুশিতে শিয়াল সমস্ত বনের পশুকে দাওয়াত করলো, আশে পাশের বন থেকেও পশুরা আসতে লাগলও। সবাই অবাক এই এমন কোন রাজা যে এতো বিদ্বান।


Bangla Golpo - বাংলা গল্প 

    সব পশুর সাথে সেই সিংহও আসলও দেখতে নতুন রাজাকে। এসে দেখে আরে এইটা তো সেই ফাজিল শিয়াল। তখন সে আগের রাজাকে বললও, মামা তোমাগো এই রাজা তো একটা ফাজিল ধড়িবাজ শিয়াল। আমি ওর পাছায় এমন এক থাবড়া মারছিলাম যে লেজ খইসা গ্যাসে।আগের কুকুররাজা বলে, কস কি মমিন!!! তখন সে সবার কানে কানে গিয়ে কথা টা বলে।

    এবং একটা প্ল্যান করে শিয়াল কে ফাঁসানোর। রাতে ডিনারের সময় সবাই যখন খেতে বসেছে, আগের রাজা হঠাত করেই বলে উঠলেন, আচ্ছা রাজামশাই তোমার লেজের গপ্পো টা আবার করো তো বাপু... শিয়াল লাফিয়ে উঠে বলতে যাবার আগেই সেই সিংহ দাঁড়িয়ে গমগম করে বলে উঠলো সেই খামচির কথা।

    সাথে এও বললও পাছার কাপড় উঠালেই সেই খামচির দাগ দেখা যাবে। এইসব শুনে শিয়াল আমতা আমতা করে যখনই পগারপার হতে যাচ্ছে, অমনি সব কুকুরগুলো এসে শিয়াল কে আচ্ছা করে অ্যায়সা ধোলাই দিলো আর শিয়াল সেখানেই অক্কা পেলো।




Bangla Golpo - পিঁপড়ে আর ঘাস ফড়িং

    পিঁপড়া আর ঘাসফড়িং দুই বন্ধু। বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলল তারা। পিঁপড়া তার আইডির নাম দিল অর্থহীন পিপীলিকা আর ঘাসফড়িং তার আইডির নাম দিল ড্রিমবয় হপার। টাইমলাইনে প্রতিদিন মেয়েদের এডিট করা ছবি দেখে দেখে পিঁপড়া আর ঘাসফড়িং মিনিটে মিনিটে ক্রাশ খেতে লাগল।

    ঘাসফড়িং একদিন নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আফসোস করে বলল, আহা, এ রকম একটা মেয়েরে পাইলে লাইফে আর কী লাগে! এ কথা শুনে পিঁপড়া বলল, তাইলে দোস্ত চল, আমরা ফেসবুকিং বাদ দিয়ে ঠিকমতো লেখাপড়া করি। লেখাপড়া শেষ করে ভালো কোনো চাকরি পেলে আমরাও এ রকম সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করতে পারব।

    ঘাসফড়িং মাথা নাড়ল, উহু, আমার পক্ষে চার বছর অপেক্ষা করা পসিবল না। আমি এখনই একটা মেয়ের প্রেমে পড়তে চাই। অতঃপর একদিকে পিঁপড়া আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে লাগল; অন্যদিকে ঘাসফড়িং ফেসবুকে সারা দিন মেয়েদের ইনবক্সে ইনবক্সে নক করতে শুরু করল।

    বন্ধুর ডিএসএলআর ক্যামেরা তুলতে লাগল ছবি। সেগুলো আপলোড করতে লাগল প্রোফাইল পিকচার হিসেবে। সঙ্গে দিতে লাগল লুতুপুতু রোমান্টিক স্ট্যাটাস। কিছু কিছু মেয়ে পছন্দ করে ফেলল ঘাসফড়িংকে। তার দিন কাটতে লাগল চ্যাটিং আর ডেটিং করে।

   এভাবে পেরিয়ে গেল পুরো চার বছর। অনার্স ফাইনাল ইয়ারের রেজাল্ট দিল। পিঁপড়া ফার্স্টক্লাস সেকেন্ড হয়েছে আর ঘাসফড়িং কোনোমতে টেনেটুনে থার্ডক্লাস। ভার্সিটি থেকে বের হয়েই পিঁপড়ার সরকারি চাকরি হয়ে গেল। বিয়ে করে ফেলল পরির মতো সুন্দর এক মেয়েকে। আর অন্যদিকে ঘাসফড়িং অল্প বেতনে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেল।

তার দিন কাটতে লাগল ঢাকার একটা মেসে একা একা। কোনো মেয়েই তাকে বিয়ে করতে রাজি হয় না। তার যেসব গার্লফ্রেন্ড ছিল, তাদের সবারই বড় বড় চাকরিওয়ালা ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেছে। প্রায় দুই বছর পরের কথা।


Bangla Golpo Thakumar Jhuli

   ঘাসফড়িং এক রাতে ফেসবুকিং করছিল। নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ করেই তার একটা ছবিতে এসে চোখ আটকে গেল। বন্ধু পিঁপড়া ভীষণ সুন্দরী এক মেয়ের সঙ্গে কাপল পিক আপলোড করেছে। ক্যাপশনে লেখা বিয়ের আগেই হোক আর পরে; কোনো মেয়ের প্রথম প্রেম হতে পারার অনুভূতি আসলেই স্বর্গীয়।

    ঘাসফড়িং সেখানে কমেন্ট করল, আহা দোস্ত, তোমারই তো ভাগ্য। ইউ আর সো লাকি ম্যান। ইশ আমিও যদি এমন কাউকে বিয়ে করতে পারতাম! পিঁপড়া কমেন্টের রিপ্লাই দিল, যখন লেখাপড়া করার টাইম ছিল, তখন তুমি ফেসবুকিং করে কাটিয়ে দিয়েছ, এখন আর আফসোস করে কী লাভ?

    সময়ের কাজ সময়ে না করলে তার ফল কখনো ভালো হয় না। ঘাসফড়িং রিপ্লাইয়ে কী লিখবে ভাবছিল। এমন সময় মেসেঞ্জারে টুং করে শব্দ। একটা মেসেজ রিকোয়েস্ট এসেছে। পাঠিয়েছে পিঁপড়ার স্ত্রী অ্যাঞ্জেল খরগোশ।

    মেসেজ রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করে ঘাসফড়িং লেখাটা পড়ল, প্লিজ হপার, তোমার সাথে ভার্সিটি লাইফে আমার যে দুই বছর প্রেম ছিল, সেটা তুমি পিঁপড়াকে বোলো না, প্লিজ! তুমি আমার সংসার ভেঙো না, প্লিইইইজ!



Bangla Golpo - রাগ নিয়ন্ত্রণ

    খুব ছোট্ট এক ছেলে প্রচন্ড রাগী ছিলো।তার বাবা তাকে একটা পেরেক ভর্তি ব্যাগ দিল এবং বললো যে, যতবার তুমি রেগে যাবে ততবার একটা করে পেরেক আমাদের বাগানের কাঠের বেড়াতে লাগিয়ে আসবে।

   প্রথমদিনেই ছেলেটিকে বাগানে গিয়ে ৩৭ টি পেরেক মারতে হলো।পরের কয়েক সপ্তাহে ছেলেটি তার রাগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনতে পারলো, তাই প্রতিদিন কাঠে নতুন পেরেকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে এলো। সে বুঝতে পারলো হাতুড়ী দিয়ে কাঠের বেড়ায় পেরেক বসানোর চেয়ে তার রাগকে নিয়ন্ত্রনকরা অনেক বেশি সহজ।

    শেষ পর্যন্ত সেই দিনটি এলো যেদিন তাকে একটি পেরেকও মারতে হলো না। সে তার বাবাকে এই কথা জানালো। তারা বাবা তাকে বললো এখন তুমি যেসব দিনে তোমার রাগকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে পারবে সেসব দিনে একটি একটি করে পেরেক খুলে ফেলো।

    অনেক দিন চলে গেল এবং ছেলেটি একদিন তার বাবাকে জানালো যে সব পেরেকই সে খুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। তার বাবা এবার তাকে নিয়ে বাগানে গেল এবং কাঠের বেড়াটি দেখিয়ে বললো, তুমি খুব ভাল ভাবে তোমার কাজ সম্পন্ন করেছো, এখন তুমি তোমার রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারো কিন্তু দেখো, প্রতিটা কাঠে পেরেকের গর্ত গুলো এখনো রয়ে গিয়েছে।

    কাঠের বেড়াটি কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। যখন তুমি কাউকে রেগে গিয়ে কিছু বলো তখন তার মনে ঠিক এমন একটা আচড় পরে যায়। তাই নিজের রাগতে নিয়ন্ত্রন করতে শেখো। মানসিক ক্ষত অনেক সময় শারীরিক ক্ষতের চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর।




Bangla Golpo - চারটি গরু

    একটা বিখ্যাত গল্প আছে। কেউ কেউ হয়ত শুনে থাকবেন। গল্পটা চারটি গরুকে নিয়ে৷ তিনটি কালো, একটি সাদা৷ তারা একটা শ্বাপদসংকুল এলাকায় বাস করতো৷ এজন্য নিরাপত্তার খাতিরে তারা একসাথে থাকত এবং একে অপরের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতো৷ যার ফলে তারা টিকে ছিল৷

    একদিন কালো তিনজন একত্র হল এবং বলল এই সাদা গরুটার জন্য আমরা ধরা পড়ে যাব৷ আমরা কালো বলে রাতের বেলা শত্রু আমাদের দেখতে পায় না, কিন্তু তাকে দেখতে পায়৷ চল ঐ গরুটাকে আমরা পরিত্যাগ করি৷ তারপর আমরা তিনজন একসাথে থাকবো৷ যেমন কথা তেমন কাজ৷

    সেদিন থেকেই কালো গরুগুলো সাদাটাকে বয়কট করল, তিনজন একপাশে থাকত আর বেচারা সাদা গরু আরেক পাশে৷ সেখানকার নেকড়ে এই গরুদের মধ্যে অনৈক্য বুঝে ফেললো এবং সে সাদা গরুটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো৷ যখন নেকড়ে সাদা গরুটার গোশত খুলে খুলে খাচ্ছিল, তখন কালো গরুগুলো কোন বাধা দিলনা৷

    তারা তাকিয়ে তাকিয়ে তাদের ভাইকে টুকরো টুকরো হতে দেখছিল৷ পরের রাতে নেকড়ে কালো গরুগুলো উপর আক্রমণ করলো, কারণ তাদের শক্তি কমে গেছে৷ এজন্য নেকড়ে একটা কালো গরুকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হলো৷

Bangla Golpo Gopal Bhar


   পরের রাতে নেকড়ের জন্য কাজটা আরো সহজ হয়ে গেল, কারণ গরু আছেই মাত্র দুটো৷ নেকড়ে খুব সহজে আরেকটা গরু খেয়ে নিল৷ শেষ রাতে গরু বাকি রইল মাত্র একটা৷ গরুটা ভয়ে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করলো। কিন্তু তার কোন সাহায্যকারী নেই৷ নেকড়ে বুঝল গরুটা দৌড়াদৌড়ি করে হাঁপিয়ে একসময় পড়ে যাবে, তাই সে মনের আনন্দে পায়চারি করতে লাগলো৷

   সময় সুযোগমত সে গরুটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো৷ জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে গরুটা একটা কথা বলেছিল, খুবই শিক্ষণীয় কথা৷ সে বলেছিল, আমিতো সেদিনই খাদ্য হয়েছি, যেদিন সাদা গরুটাকে খাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গরুটা বুঝতে পেরেছিল, যেদিন সে সাদা গরুটাকে সাহায্য করেনি, সেদিনই সে নিজের মৃত্যুর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।



Bangla Golpo - অন্ধ মায়ের গল্প

    ছেলেটির নাম এরিক। ওর মায়ের এক চোখ অন্ধ!! স্কুলের বন্ধুদের সামনে এরিক এ নিয়ে খুবই বিব্রত হয়। একবার ওর মা স্কুলে গেলো খাবার নিয়ে, এরিক চিৎকার করে বললো তুমি মরে যাও না কেন? তাহলে আমাকে এই লজ্জা পেতে হয় না বন্ধুদের কাছে।

   ছিঃ কি বিশ্রি দেখা যায় একটা চোখে যখন তাকাও। খুব মনোযোগ দিয়ে এরিক লেখাপড়া করে, কারণ যত দ্রুত সম্ভব সে বড় হয়ে এখান থেকে চলে যেতে চায়। খুব ভালো রেজাল্ট করলো এরিক, সেই সাথে প্রতিষ্ঠা! তার নিজের বাড়ি, গাড়ি, বউ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার!

    একচোখ অন্ধ মায়ের কোন চিহ্নই নেই তার জীবনে। এদিকে বৃদ্ধা মৃত্যুর দিন গুনছে আর মরবার আগে একটি বারের জন্য নাতিগুলোর মুখ দেখার লোভ সামলাতে না পেরে ঠিকানা খুঁজে খুঁজে চলে গেলো ছেলের বাড়ি। বৃদ্ধাকে দরজায় দেখে এরিক হুংকার দিলো কোন সাহসে এসেছো এখানে?

    দেখছনা তোমাকে দেখে আমার বাচ্চারা ভয় পাচ্ছে? দূর হও!! মা মনে খুব কষ্ট বুকে নিয়ে ফিরে যায়। এর কয়েক বছর পরে স্কুলের পূনর্মিলনীতে বিশেষ অতিথী হয়ে গেলো এরিক! অনুষ্ঠান শেষে কি মনে করে যেন বৃদ্ধাকে দেখতে গেলো।

     প্রতিবেশী অপর বৃদ্ধা জানালো বছর দুই আগেই তিনি গত হয়েছেন আর যাবার আগে এরিকের জন্য রেখে গেছেন একখানা চিঠি তাতে লিখা আমার সোনামনি এরিক, জানি তুমি তোমার মা কে অনেক ঘৃণা করো। আমি তোমাকে জীবনে কিছুই দিতে পারিনি, দিয়েছি শুধু লজ্জা। মা হিসেবে আমি ব্যর্থ। এ জন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

    ছোটবেলায় একবার তোমার একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিল আর তাতে তোমার একটা চোখ খুব খারাপ ভাবে আহত হয়েছিল। তুমি সারাজীবন একচোখ দিয়ে দেখবে, মা হিসেবে এটা আমি মেনে নিতে পারিনি, তাই নিজেই বাকি জীবন একচোখ দিয়ে দেখবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজ তুমি দুচোখ দিয়ে দেখতে পারছো, আমার কাছে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই। তুমি ভালো থেকো বাবা ইতি তোমার হতভাগা মা।




 
   এখানে যে দশটি


Disqus Comments